শাহেদ ফ্যাশনকে হেয় করার হীন চক্রান্ত: ভুক্তভোগী পরিবারের মুখেই ফাঁস হলো সাজানো সংবাদের থলে
মোস্তাবিন সিয়াম বিশেষ প্রতিনিধি
পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘শাহেদ ফ্যাশন’ এবং এর মালিক শাহিন খানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো চক্রান্তের থলে অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে । শাহিন খানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে জোড়াজুড়ি করে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ‘আপোশনামা’ করানোর যে বানোয়াট সংবাদ রটানো হয়েছিল, তা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—তা ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একাধিক চাঞ্চল্যকর এক্সক্লুসিভ ভিডিও নথিতে ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর মাকে খোলামেলা আলোচনায় সত্য উন্মোচন করতে দেখা যায় ভিডিও বিশ্লেষণে উঠে আসে, একটি তুচ্ছ পারিবারিক বা ঘরোয়া ভুল বোঝাবুঝিকে পুঁজি করে শাহেদ ফ্যাশনকে ব্ল্যাকমেইল করার নোংরা খেলা খেলেছিল একটি হলুদ সাংবাদিক চক্র।
ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার অকপটে আমাদের বাংলাদেশ ডটকম টিমের কাছে স্বীকার করছেন যে, শাহেদ ফ্যাশনের মালিক শাহিন খানের সঙ্গে শ্লীলতাহানি বা অনৈতিক কোনো ঘটনার প্রশ্নই আসে না
ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছেলেদের নিজেদের মধ্যকার মারামারি ও কাটাকাটির মতো সামান্য বিষয় থেকে একটি সাময়িক অম্লমধুর শত্রুতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটিকে বিশাল কোনো অঘটন বা যৌন নিপীড়নের রূপ দিয়ে মিষ্টিকরণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন:
“আমরা কোনো সাংবাদিককে নিজেরা ডেকে আনি নাই, কারও বিরুদ্ধে মামলা বা লিখিত অভিযোগও করি নাই। তাহলে তারা কেন এসে আমাদের ঘরোয়া বিষয় নিয়ে মিথ্যা গল্প বানিয়ে আমাদের ও শাহিন সাহেবকে এভাবে হয়রানি করছে?”
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। সেই পারিবারিক সুযোগটিকেই কাজে লাগায় স্বার্থান্বেষী মহলের অনুসারীরা। ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই ভিডিওতে স্বীকার করেছেন যে, বাবার অনুপস্থিতিতে এবং আইনি বা সংবাদমাধ্যমের জটিলতা না বোঝার কারণে কিছু লোক তাঁদের বিভ্রান্ত করে বানোয়াট কথা লিখিয়ে ও বলিয়ে নেয়।
তরুণী জানান, অজ্ঞতা নামা কিছু হলুদ সাংবাদিক তার নামে জনৈক সাংবাদিক সত্যতা যাচাই না করেই মনগড়া সংবাদ প্রচার করেন, যার কোনো আইনি বা বাস্তব ভিত্তি ছিল না। তারা স্পষ্ট করেন—থানা পুলিশ, আদালত বা অন্য কোনো প্রশাসনিক দপ্তরে শাহেদ ফ্যাশনের মালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি
সচেতন মহলের মতে, ‘শাহেদ ফ্যাশন’ একটি অত্যন্ত সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহিন খানের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনামকে ভুলুণ্ঠিত করে তাঁর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যেই একটি বিশেষ চক্র এই নাটকটি সাজিয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের সরাসরি জবানবন্দি ও ভিডিও নথির কারণে সেই ষড়যন্ত্র পুরো ভেস্তে গেছে
শাহেদা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী শাহীন খান আমাদের বাংলাদেশ পত্রিকা কে জানান, “প্রায় দুই মাস আগে অভিযুক্ত তরুণী ও তাঁর পরিবার আমার বাড়ি ভাড়া নেন। কিছুদিন পর উক্ত তরুণীর বড় ভাইকে বাসায় বসে মাদক সেবন করতে দেখে আমি শাসন করি। দুই মাস পার হলেও তাঁরা বাসা ভাড়া না দেওয়ায় পাওনা টাকা চাইলে আমার সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই বিরোধের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় আজিজ নামের এক ব্যক্তি আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, আজিজ ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন লোককে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার শুরু করেন। এ মিথ্যা অপপ্রচারে আমার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম মানহানি ঘটেছে এবং আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দেশবাসীর কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।”